ব্লগInformationবাংলাদেশ সরকারি চাকরির গ্রেড ও বেতন ২০২৬  

বাংলাদেশ সরকারি চাকরির গ্রেড ও বেতন ২০২৬  

সরকারি চাকরির গ্রেড ও বেতন

শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে তা হল একটা সরকারি চাকরি।তবে সরকারি চাকরির জগতে প্রবেশের আগে যে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল থাকে তা হল– সরকারি চাকরির গ্রেড ও বেতন। সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধার কারণে প্রতি বছরে লক্ষ লক্ষ প্রার্থী সরকারি চাকরির প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়। 

তাই ঢালাওভাবে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করে সরকারি চাকরির গ্রেড ও বেতন কাঠামো বুঝে প্রতিযোগিতায় নামলে সরকারি চাকরি পাওয়া সহজ হয়। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরকারি চাকরির গ্রেড ও বেতন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আশা করি, কোন গ্রেডের বেতন কত, সুবিধা কি কি, পদোন্নতির কিভাবে হয় ইত্যাদি সকল বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।  

সরকারি চাকরির গ্রেড কী?

গ্রেড শব্দের অর্থ হল শ্রেণি বা ধাপ।সহজভাবে বলতে গেলে, সরকারি চাকরির গ্রেড হল পদমর্যাদা এবং বেতন নির্ধারণের একটি স্তর বা ধাপ। বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পদবী, দায়িত্ব এবং অভিজ্ঞতার উপড়ে ভিত্তি করে তাদের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যা গ্রেড নামে পরিচিত।

সর্বশেষ বাংলাদেশ জাতীয় পে স্কেল- ২০১৫ অনুযায়ী মোট ২০টি গ্রেড চালু রয়েছে। এই ২০টি গ্রেডকে আরও সহজে বুঝতে ৪টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।  

সরকারি চাকরির গ্রেড ও বেতন

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের ২০টি গ্রেডের উপড়ে নির্ধারিত হয়। আবার এই সকল গ্রেডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গ্রেড বিন্যাস সহজে বুঝতে ৪টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। নিম্নে বাংলাদেশে সরকারি চাকরির শ্রেণি অনুযায়ী গ্রেড ও বেতন বিন্যাস দেওয়া হল।  

১ম–৯ম গ্রেড (প্রথম শ্রেণি / ক্যাডার)

বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ স্তরের কর্মকর্তাদের এই গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একজন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা সাধারণত ৯ম গ্রেড থেকে তার কর্মজীবন শুরু করেন।নিচে তাদের মূল বেতন ও পদমর্যাদার বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:

গ্রেডপদের নাম/মর্যাদা (উদাহরণ)মূল বেতন স্কেল (টাকা)বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
গ্রেড ১সিনিয়র সচিব / সচিব৭৮,০০০ (নির্ধারিত)নেই
গ্রেড ২অতিরিক্ত সচিব / গ্রেড-১ কর্মকর্তার নিচের পদ৬৬,০০০ – ৭৬,৪৯০৩.৭৫% – ৫%
গ্রেড ৩যুগ্ম সচিব / অধ্যাপক / ডিআইজি (পুলিশ)৫৬,৫০০ – ৭৪,৪০০৫%
গ্রেড ৪উপ-সচিব / সহযোগী অধ্যাপক / অতিরিক্ত ডিআইজি৫০,০০০ – ৭১,২০০৫%
গ্রেড ৫জেলা প্রশাসক (DC) / পুলিশ সুপার (SP)৪৩,০০০ – ৬৯,৮৫০৫%
গ্রেড ৬অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ADC) / অতিরিক্ত এসপি৩৫,৫০০ – ৬৭,০১০৫%
গ্রেড ৭সিনিয়র সহকারী কমিশনার / সহকারী অধ্যাপক২৯,০০০ – ৬৩,৪১০৫%
গ্রেড ৮উচ্চতর স্কেল প্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা২৩,০০০ – ৫৫,৪৭০৫%
গ্রেড ৯বিসিএস ক্যাডার (এন্ট্রি লেভেল) / প্রভাষক২২,০০০ – ৫৩,০৬০৫%

১০ম–১৬তম গ্রেড (দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণি)

১০ম থেকে ১৬তম  গ্রেডগুলো সরকারি দপ্তরের কার্যপরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১০ম থেকে ১২তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের সাধারণত দ্বিতীয় শ্রেণি হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীরা তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সরকারি দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কাজগুলো মূলত এরাই সম্পন্ন করেন। নিচে বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:

গ্রেডপদের শ্রেণিপদের নাম/মর্যাদা (উদাহরণ)মূল বেতন স্কেল (টাকা)ইনক্রিমেন্ট
গ্রেড ১০২য় শ্রেণিউপ-সহকারী প্রকৌশলী / নার্স (১০ম গ্রেড) / এসআই১৬,০০০ – ৩৮,৬৪০৫%
গ্রেড ১১২য় শ্রেণিপ্রধান সহকারী / ব্যক্তিগত কর্মকর্তা / নার্স (১১তম গ্রেড)১২,৫০০ – ৩০,২৩০৫%
গ্রেড ১২২য় শ্রেণিউচ্চমান সহকারী / হিসাব রক্ষক (বিভাগীয় দপ্তর)১১,৩০০ – ২৭,৩০০৫%
গ্রেড ১৩৩য় শ্রেণিঅফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর / ড্রাইভার (ভারী)১১,০০০ – ২৬,৫৯০৫%
গ্রেড ১৪৩য় শ্রেণিউচ্চমান সহকারী (জেলা দপ্তর) / ড্রাফটসম্যান১০,২০০ – ২৪,৬৮০৫%
গ্রেড ১৫৩য় শ্রেণিগাড়ি চালক (হালকা) / কার্যসহকারী৯,৭০০ – ২৩,৪৯০৫%
গ্রেড ১৬৩য় শ্রেণিঅফিস সহকারী / ডাটা এন্ট্রি অপারেটর / ল্যাব সহকারী৯,৩০০ – ২২,৪৯০৫%

১৭তম–২০তম গ্রেড (চতুর্থ শ্রেণি)

সরকারি দপ্তরের একদম তৃণমূল পর্যায়ের এই কর্মচারীরা শারীরিক ও কারিগরি সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নিচে তাদের বিস্তারিত বেতন তালিকা দেওয়া হলো:

গ্রেডপদের শ্রেণিপদের নাম/মর্যাদা (উদাহরণ)মূল বেতন স্কেল (টাকা)ইনক্রিমেন্ট
গ্রেড ১৭৪র্থ শ্রেণিঅফিস সহায়ক (এমএলএসএস) / ল্যাব এটেনডেন্ট৯,০০০ – ২১,৮০০৫%
গ্রেড ১৮৪র্থ শ্রেণিমালি / দপ্তরি / লিফটম্যান৮,৮০০ – ২১,৩১০৫%
গ্রেড ১৯৪র্থ শ্রেণিনিরাপত্তা প্রহরী / বাবুর্চি / ধোপা৮,৫০০ – ২০,৫৭০৫%
গ্রেড ২০৪র্থ শ্রেণিপরিচ্ছন্নতা কর্মী / সুইপার / আয়া৮,২৫০ – ২০,০১০৫%

সরকারি চাকরির বেতন কাঠামো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?

সরকারি চাকরির বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি বেশ সুশৃঙ্খল এবং এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে চলে। বাংলাদেশে বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন নির্ধারিত হয়।

কিভাবে এই বেতন কাঠামো কাজ করে, তা নিচে পয়েন্ট আকারে দেওয়া হলো:

১. পে কমিশন (Pay Commission) গঠন

সরকার সাধারণত প্রতি ৫ থেকে ১০ বছর অন্তর একটি ‘জাতীয় পে কমিশন’ গঠন করে। এই কমিশন দেশের মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করে। বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল কার্যকর রয়েছে।

২. ২০টি গ্রেডে বিন্যাস

বেতন কাঠামোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একে ২০টি গ্রেডে ভাগ করা।আপনার পদের গুরুত্ব, দায়িত্ব এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট গ্রেডে ফেলা হয়।যেমন: বিসিএস ক্যাডারদের জন্য ৯ম গ্রেড এবং অফিস সহায়কদের জন্য ২০তম গ্রেড নির্ধারিত।

৩. মূল বেতন (Basic Salary) ও বেতন সীমা

প্রতিটি গ্রেডের জন্য একটি নির্দিষ্ট বেতন সীমা (Salary Range) থাকে।একটি নির্দিষ্ট গ্রেডে যোগদানের সময় আপনি সর্বনিম্ন স্কেল থেকে শুরু করেন।উদাহরণস্বরূপ: ৯ম গ্রেডে যোগদান করলে আপনার মূল বেতন হবে ২২,০০০ টাকা। এটি প্রতি বছর বেড়ে সর্বোচ্চ ৫৩,০৬০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

৪. ইনক্রিমেন্ট বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি

বর্তমান কাঠামোতে নির্দিষ্ট হারে প্রতি বছর বেতন বৃদ্ধি পায়। ২০১৫ সালের স্কেল অনুযায়ী এটি সাধারণত মূল বেতনের ৫% চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে। অর্থাৎ, প্রতি বছর জুলাই মাসে আপনার মূল বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যায়।

৫. ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা

মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভাতা যুক্ত হয়, যেমন—বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, উৎসব ভাতা ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে কর্মস্থলের অবস্থান (যেমন শহর বা গ্রাম) অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

সরকারি চাকরির ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা

সরকারি চাকরিতে মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়। নিচে প্রধান ভাতা ও সুবিধাগুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো—

১. বাড়িভাড়া ভাতা

সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পান। কর্মস্থলের শ্রেণি (মহানগর, জেলা, উপজেলা ইত্যাদি) অনুযায়ী এই হার ভিন্ন হতে পারে। যারা সরকারি কোয়ার্টারে থাকেন, তারা সাধারণত এই ভাতা পান না বা সমন্বয় করা হয়।

২. চিকিৎসা ভাতা

প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে চিকিৎসা ভাতা প্রদান করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো কর্মচারী ও তার নির্ভরশীল পরিবারের প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যয় আংশিক বহন করা।

৩. যাতায়াত ভাতা

কিছু নির্দিষ্ট পদ বা দায়িত্বের ক্ষেত্রে (বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে কর্মরতদের জন্য) যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়।

৪. উৎসব ভাতা

মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মচারীরা তাদের নিজ নিজ প্রধান ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বছরে দুইবার উৎসব ভাতা পান। সাধারণত এটি এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ হয়ে থাকে।

৫. বাংলা নববর্ষ ভাতা

প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে একটি নির্দিষ্ট হারে (সাধারণত মূল বেতনের ২০%) নববর্ষ ভাতা প্রদান করা হয়।

৬. পেনশন ও গ্র্যাচুইটি

সরকারি চাকরির অন্যতম বড় সুবিধা হলো অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা। নির্দিষ্ট সময় চাকরি সম্পন্ন করার পর কর্মচারীরা পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অবসরকালীন অন্যান্য সুবিধা পান।

৭. প্রভিডেন্ট ফান্ড ও কল্যাণ সুবিধা

সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড, কল্যাণ তহবিল, শিক্ষা সহায়তা, এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বল্পসুদে ঋণের সুবিধাও থাকে।

ক্যাডার ও নন ক্যাডারের মধ্যে পার্থক্য

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে “ক্যাডার” ও “নন-ক্যাডার” দুটি আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো। ক্যাডার বলতে মূলত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)-এর বিভিন্ন সার্ভিস (যেমন প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, কর ইত্যাদি) বোঝায়। আর নন-ক্যাডার হলো অন্যান্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, সংস্থা বা দপ্তরের নিয়মিত সরকারি পদ, যা বিসিএস কাঠামোর বাইরে।

নিচে ক্যাডার ও নন ক্যাডারের মধ্যে পার্থক্যগুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো—

বিষয়ক্যাডারনন-ক্যাডার
সংজ্ঞাবিসিএস কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত সার্ভিসবিসিএসের বাইরে সরকারি দপ্তরের পদ
নিয়োগ প্রক্রিয়াবিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমেআলাদা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা
নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কর্তৃপক্ষসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর
পদোন্নতি কাঠামোসুসংগঠিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রমোশন চ্যানেলঅনেক ক্ষেত্রে সীমিত বা দপ্তরনির্ভর
বদলি/পোস্টিংসারা দেশে বদলির সুযোগনির্দিষ্ট দপ্তর বা সীমিত পরিসরে
প্রশাসনিক ভূমিকানীতিনির্ধারণ ও মাঠ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাদপ্তরভিত্তিক কারিগরি/প্রশাসনিক কাজ
সর্বোচ্চ পদে ওঠার সুযোগসচিব/উচ্চপদে ওঠার সুযোগ থাকে (যোগ্যতা ও শূন্যপদ সাপেক্ষে)সাধারণত নিজ দপ্তরের কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ

পে স্কেল ২০১৫ গেজেট pdf

বাংলাদেশ সরকারের সর্বশেষ ঘোষিত জাতীয় বেতন কাঠামো হলো জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫। এই বেতন স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেড, মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নির্ধারণ করা হয়। 

নিম্নে পে স্কেল ২০১৫ গেজেট pdf টি দেওয়া হল। অনলাইনের মাধ্যমে পে স্কেল ২০১৫ গেজেট pdf টি দেখতে এবং  ডাউনলোড করতে নীচের পে স্কেল গেজেট বাটনে ক্লিক করুন।   

উপসংহার  

বাংলাদেশে সরকারি চাকরির গ্রেড ও বেতন কাঠামো একটি সুসংগঠিত ও নীতিনির্ভর ব্যবস্থা।  এটি  জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। গ্রেডভিত্তিক মূল বেতনের পাশাপাশি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, ভাতা এবং অবসর সুবিধা সরকারি চাকরিকে অনেক বেশি প্রতিযোগী করে তুলেছে।  সরকারি চাকরিতে আগ্রহীদের জন্য গ্রেড, বেতন ও সুবিধা সম্পর্কে সুস্পস্ট ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য জানলে ক্যারিয়ার পরিকল্পনাও হবে আরও বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর  

৯ম গ্রেড বেতন স্কেল কত?

৯ম গ্রেড বেতন স্কেল ২২০০০ থেকে ৫৩০৬০ টাকা। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে নির্ধারিত সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

১০ম গ্রেড বেতন স্কেল কত? 

১০ গ্রেডের বেতন স্কেল ১৬০০০ থেকে ৩৮৬৪০ টাকা। ১০ম গ্রেডের মূল বেতন শুরু হয় ১৬,০০০ টাকা থেকে এবং ইনক্রিমেন্টসহ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়।

১ম গ্রেডের বেতন কত? 

১ম গ্রেড (সর্বোচ্চ গ্রেড) এর মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা নির্ধারিত। এটি সাধারণত সচিব বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য।

সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন গ্রেড কত?  

সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন গ্রেড হলো ২০তম গ্রেড। এর মূল বেতন শুরু হয় ৮,২৫০ টাকা থেকে। পরিচ্ছন্নতা কর্মী,  সুইপার, আয়া এগুলা ২০ তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।  

৫ম গ্রেড মানে কি?

৫ম গ্রেড হলো উচ্চ-মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তা পদ। ৫ম গ্রেডের বেতন স্কেল ৪৩০০০ থেকে ৬৯৮৫০ টাকা। এই গ্রেডে সাধারণত উপ-সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব বা সমমানের কর্মকর্তারা অবস্থান করেন। 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *